উদ্যোক্তা ইন্টারভিউ –

ছাত্রজীবনেই উদ্যোক্তা হয়েছেন এবং সফল হয়েছেন এরকম উদ্যোক্তা দের মধ্যে একজন হচ্ছেন   আসাদুজ্জামান (হৃদয় ) ,তিনি ঢাকাটেক.নেট প্রতিষ্ঠানের   নির্বাহী  প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। আমাদের আজকের উদ্যোক্তা ইন্টারভিউ তে জানবো আসাদুজ্জামান (হৃদয় )  এবং তার প্রতিষ্ঠান ঢাকাটেক.নেট    এর আদ্যোপান্ত।

 

প্রতিবেদক: নিজেদের সম্পর্কে কিছু বলুন-

আসাদুজ্জামান (হৃদয় )  : স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু আজ তা বাস্তব, আমরা একটা টিম হিয়ে কাজ করি টিমের মেম্বারা সবাই তরুন তাদের চোখে তারুন্যের জোয়ার আর আমি সেই সুযোগ টাই কাজে লাগাচ্ছি | ওদের কে বলেদিয়েছি আমাকে কখনোই স্যার না বলতে |

প্রতিবেদক: কিভাবে এই উদ্যোগ নিতে আগ্রহী হলেন?

আসাদুজ্জামান (হৃদয় )  :আমি যখন ভার্সিটির প্রথম সেমিস্টারে পড়ি তখন থেকেই আমার মনে একটাই ভাবনা আমি বসে থাকবা না আমাকে কিছু একটা করতে হবে, পরে অনেক ভেবে মাঠে নেমে পড়লাম |

প্রতিবেদক: শুরুটা কিভাবে করলেন?

আসাদুজ্জামান (হৃদয় )  : ২০১৬ এর মাঝামাঝি থেকেই আমি বুঝতে পারলাম এইবার সময় এসেছে আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবার। ভার্সিটি জীবনে ইঞ্জিনিয়ার্স আড্ডা, সেমিনার, ক্লাস পার্টি না করে আমাকে পরিশ্রম করতে হবে যাতে করে আমাকে সবাই একনামে চিনে আমি আমার মতই কাজ করে চলছি

প্রতিবেদক: কোনো প্রতিবন্ধকতা এসেছে কিনা?

আসাদুজ্জামান (হৃদয় )  : হ্যাঁ কিছু সমস্যা আমাদের সবারই কমবেশি ছিল। তবে সেগুলো পেরিয়ে আসার অদম্য স্পৃহা আর মনোবলের জোরে শেষ পর্যন্ত ঢাকাটেক.নেট এর যাত্রা শুরু করেছে- এটাই বড় পাওয়া ।

প্রতিবেদক: কিভাবে এগিয়ে গেলেন?

আসাদুজ্জামান (হৃদয় )  : মাঝে মাঝে মনে হয়েছে হাল ছেড়ে দেই – কী হবে এইসব করে? পরক্ষনেই নিজেকে বুঝিয়েছি স্বপ্নের সাথে আপস করা উচিত নয়। অনুপ্রেরণার জন্য পরিবারের মানুষগুলো এবং খুব কাছের কিছু বন্ধু ও স্নেহাশীষ অনুজদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।

প্রতিবেদক: বর্তমান অবস্থা কি? সফলতা-ব্যার্থতা।

আসাদুজ্জামান (হৃদয় )  : দুই বছরে আমাদের সফলতা অনেক আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের এখন ৫০+ ক্লায়েন্ট | একটি ডিজিটাল মার্কেটিং ফার্ম হিসেবে আমিরা এখন অনেক বড় প্রতিষ্ঠান তাছাড়া আমাদের ফ্রিলাসিং / আউটসোর্সিং লার্নিং ও বেশ জনপ্রিয়, ঈদের পরেই আমরা আমাদের ই-কমার্স শাখা খুলবো HRIDOY CURE নামে |

প্রতিবেদক: প্রচারণার ক্ষেত্রে কি করছেন?

আসাদুজ্জামান (হৃদয় )  : আমাদের ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পেজের মাধ্যমে আপাতত প্রচারণা চালানো হচ্ছে । ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছে আমাদেরই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট টিম । ফ্যান পেইজ পরিচালনা করছে পাবলিক রিলেশন্স ডিপার্টমেন্ট।

প্রতিবেদক: আগামীতে পরিকল্পনা কি?

আসাদুজ্জামান (হৃদয় )  : সরকারি ভার্সিটি গুলোর এলামনাই সংখ্যা বিশাল , এটা কর্মক্ষেত্রে সরকারি শিক্ষাপ্রতিস্থান থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য একটা বাই ডিফল্ট প্লাস পয়েন্ট। আমরা চাচ্ছি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলার গ্রাজুয়েট দের জন্যও এরকম কিছু একটা হোক। পাশাপাশি নিজের মেধা ও সৃজনশীলতা দিয়ে তারা কিছু করার একটা প্ল্যাটফর্ম পাক। একজন ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্ট কেন টিউশানি করে নিজের মুল্যবান মেধা ও সময় ক্ষয় করবে ? বরং, তাদের জন্যে এমন একটা প্ল্যাটফর্ম করা দরকার, যেখানে তারা নিজেদের পছন্দের বিষয়টায় দক্ষতা অর্জন ও নতুন কিছু উদ্ভাবনের পাশাপাশি কিছু আয়ও করতে পারবে। প্রফেশন্যালদের জন্যে একটা কাজের ক্ষেত্র উন্মোচনের পাশাপাশি আগামি-প্রজন্মের প্রফেশন্যালসদের জন্যে তেমনি একটা কিছু করার ইচ্ছা আছে।

আমাদের দেশে ইউনিভার্সিটিগুলোতে অনেক প্রোজেক্ট হয়, কিন্তু সেগুলো কখনো প্রোডাক্টে পরিণত হয়না। আমরা ইনোভেটিভ প্রোজেক্ট আইডিয়াগুলোকে প্রোডাক্টে কনভার্ট করতে চাই। স্কুল কলেজের অনেক শিশু কিশোর ইলেক্ট্রনিক্স, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, অ্যানিমেশন কিম্বা অ্যাপ্স নিয়ে কাজে আগ্রহী থাকে। ওরাই তো আমাদের ভবিষ্যৎ, ওদের এখন থেকেই গড়ে নেয়ার দায়িত্বটাও আমাদেরই। তাই তাদের জন্যেও বাংলায় কিছু রিসোর্স তৈরি করছি।

 

প্রতিবেদক: নতুন যারা এই ব্যবসায় আসতে চান তাদের কি করা উচিত?

আসাদুজ্জামান (হৃদয় )  : নিজের উপর সবসময় বিশ্বাস রাখুন। নানা বাধা বিপত্তি আসবে, চ্যালেঞ্জ আসবে, মানুষজনের কথা শুনতে হতে পারে – কিন্ত আশা হারানো একেবারেই চলবে না । কে কি বলল কিম্বা কে কতোদূর গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়লো- সেটা কোন উদাহরণ হতে পারেনা। শত ব্যর্থতার মাঝেও স্বপ্ন দেখতে জানতে হবে। ব্যর্থতার সাথে আপোষ করে মানুষ আসলে টিকে থাকে, কিন্তু বাঁচে না। আপনাদের বাঁচার চেষ্টা করতে হবে- শক্ত ভাবে, দৃঢ়তার সাথে !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

\